ইয়াবা দিয়ে ফাসাতে গিয়ে নিজেই ফেসে গেলেন
নিউস জোন বিডি ২৪: অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়লে সেই গর্তে যে নিজেকেই পরতে হয়’ তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে বগুড়ায়। ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে ইউপি সদস্যকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই পুলিশের কাছে ধরা পড়লেন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার কাগইল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আগানিহাল বিন জলিল ওরফে তপন (৫৪)। বুধবার ভোরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আছলাম আলী পিপিএম জানান, সরকারি বরাদ্দের অনিয়মের কারণে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যেদের মধ্যে বিভিন্ন সময় মতবিরোধ হয়। এর জেরে সদস্যরা উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের লিখিতভাবে চেয়ারম্যানের অনিয়মের বিষয়টি জানান।
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১০ থেকে ১২ টি মামলা।
আবার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১০ থেকে ১২ টি মামলাও রয়েছে। এসব প্রোপটে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গত ১৯ মার্চ চেয়ারম্যান তপনকে সাময়িক বরখাস্ত করে। এরপর থেকে পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন ইউপি সদস্য শামীম। শামীম ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের পর থেকেই চেয়ারম্যানের সঙ্গে দূরত্ব আরও বেড়ে যায় তার। এ নিয়ে চেয়ারম্যান ও শামীমের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
তবে হাইকোর্ট গত ১৫ এপ্রিল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব বহাল রাখে। কিন্তু ইউপি সদস্যদের কারণে বিশেষ করে শামীমের কারণে তিনি পরিষদে ঢুকতে পারছিলেন না।
পুলিশ আরও জানায়, পরিষদে ঢুকতে না পারাসহ বিভিন্ন ােভে শামীমকে শায়েস্তা করার সিদ্ধান্ত নেন চেয়ারম্যান তপন। এই পরিকল্পনা মতে আরেক ইউপি সদস্য সাইদের মাধ্যমে গত ১০ থেকে ১৫ দিন আগে মুঠোফোনে স্থানীয় বাসিন্দা সুলতান মিয়াকে দিয়ে টাকার বিনিময়ে মাদক দিয়ে শামীমকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন।
শামীমকে মাদক দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সুলতান।
এই ঘটনার কয়েকদিন পরে শামীম চেয়ারম্যানের বাড়িতে যান। এর মধ্যে শামীমকে মাদক দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সুলতান ও তাঁর সহযোগী সুজন আহম্মেকে ১০ হাজার টাকা দেন চেয়ারম্যান তপন। পরে তাঁরা গাবতলী থেকে ৫০ পিস ইয়াবা কেনেন। এই ইয়াবা পলিথিনে পেচিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে রাখা সদস্য শামীমের মোটরসাইকেলের মধ্যে লুকিয়ে রাখেন। এরপর সুলতান ও সুজন চেয়ারম্যান বিষয়টি জানান।
এরপর চেয়ারম্যানের কথামতো সুলতান ও সুজন চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে আসেন। গত ১৪ মে রাতে সুলতান ও সুজন জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে মোটরসাইকেলে ইয়াবা রাখার বিষয়টি জানান। পরে রাত আনুমানিক ৩ টায় গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আছলাম আলীর নেতৃত্বে ডিবির একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে যথারীতি মোটরসাইকেল থেকে ইয়াবা উদ্ধার করে।
চেয়ারম্যানের কথায় মাদক দিয়ে শামীমকে ফাঁসানো।
সার্বিক বিষয়টি ডিবির ঐ টিমের সন্দেহভাজন হলে সংবাদদাতা গাবতলীর সুজন আহম্মেদ (২৮) ও সুলতান মিয়া (৩২) কে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে সুলতান ও সুজন চেয়ারম্যানের কথায় মাদক দিয়ে শামীমকে ফাঁসানোর বিষয়টি স্বীকার করেন। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চেয়ারম্যানকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চেয়ারম্যান তপনও পরে বিষয়টি স্বীকার করেছেন। সংবাদদাত ২ জন সহ মূল অপরাধী চেয়ারম্যান তপনের নামে ইতিমধ্যে গাবতলী থানায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) টেবিলের ১০ (ক)/৪০ ধারায় মামলা ঋজু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
ইউপি সদস্যকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর জন্য চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বিপিএম (বার) বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেন আইনের হাত থেকে কারও শেষ রক্ষা হবেনা।
বগুড়া জেলা পুলিশের সকল ইউনিট অপরাধ দমনে মেধা ও দক্ষতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে মর্মে জেলা পুলিশ সুপার বলেন জনপ্রতিনিধি হোক বা ক্ষমতাশীল কোন ব্যক্তি ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি করার কেউ চেষ্টা করলে জেলা পুলিশ সর্বদা জিরো টলারেন্স থাকবে বলেও জানান তিনি।

কোন মন্তব্য নেই: